Showing posts with label তখ্য/খবর. Show all posts
Showing posts with label তখ্য/খবর. Show all posts

Sunday, June 17, 2018

বিজ্ঞাপন বার্তা



( বিজ্ঞাপন বার্তা )

আধুনিক শহরে নিওন-বাতি বিজ্ঞাপনের ব্যবসার সবচেয়ে বড় সহায়ক হিসাবে গণ্য হচ্ছে। কোন একটি বিশেষ ব্যাপারের প্রতি জনসাধারণকে আকৃষ্ট করাই বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য। বর্তমান যুগের সর্বাধিক দর্শকাকর্ষক বিজ্ঞপ্তিটি 'এ রিয়েল এসটেট ডেভলপমেন্ট'-এর। লস এঞ্জেলস শহরের একটি পাহাড়ের শীর্ষ -দেশে কিছু অক্ষর পাশাপাশি সাজিয়ে বিজ্ঞাপনটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উনিশ শ’ তেইশ খ্রীস্টাব্দে এটি তৈরী করা হয়। চিহ্নটি হচ্ছে 'Hollywood'। এর এক-একটি অক্ষর এত বড় যে, বহু দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষমতা সম্পন্ন। প্রতিটি অক্ষরের গড় দৈর্ঘ্য পঁয়তাল্লিশ ফুটের ওপরে। আর প্রস্থ? সে-ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার। প্রতিটির গড় প্রস্থ ত্রিশ ফুট। উনিশ শ' উনআশি খ্রীস্টাব্দে এটি তৈরী করা হয়। হলিউড চেম্বার অব কমার্স এর বিজ্ঞপ্তি। পাহাড়ের ওপরে তিন শ’ সত্তর ফুট স্থান জুড়ে এর অবস্থান।

( বৃহত্তম নিওনবাতির বিজ্ঞাপন )

পোর্ট ট্যাম্পাতে ‘আটলান্টিক কোস্ট লাইন রেলরোড কোম্পানী'র একটি নিওনবাতির বিজ্ঞাপন ছিল যার দৈর্ঘ্য তিন শ’ সাতাশি ফুট দুই ইঞ্চি। আর উচ্চতাও অবিশ্বাস্য। ছিয়াত্তর ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বিজ্ঞাপনটি। সর্বমোট ওজন এক শ ছিয়ানব্বই টন। বাক্সটির ভেতরে চার হাজার দু’ শ কুড়ি ফুট লাল নিওনবাতির টিউব ব্যাবহার করা হয়েছিল। উনিশ শ’ সত্তর খ্রীস্টাব্দের উনিশে ফেব্রুয়ারী সেটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আজ পর্যন্ত এমন বিশাল দ্বিতীয় আর একটি বিজ্ঞাপন পৃথিবীর অন্য কোথাও, অন্য কোন দেশে তৈরী করা হয়নি।

( বিজ্ঞাপনের রাজা )

নিউইয়র্কে বোর্ড ওয়েস বিলবোর্ড প্রতিষ্ঠানটির একটি বিজ্ঞাপন বাস্তবিকই চমক লাগিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। একটি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রফল এগার হাজার চারশ’ ছাব্বিশ ফুট, ভাবা যায়! বিজ্ঞাপন ক্ষেত্রটি বর্গাকার। এক শ' সাত ফুট দৈর্ঘ্য এর প্রত্যেক প্রান্ত। এটি স্থাপন করা হয়েছে উনিশ শ তেষট্টিতে নৰ্থ ইয়র্ক শায়ারের টাইমস স্কোরার নামক স্থানে। এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয় 'হেইগ স্কচ হুইস্কি'র সাড়ে বিয়াল্লিশ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট দুটো বোতল। আর আশি ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি গর্ডন'স জিনের বোতল থেকে অতিকায় একটি গ্লাসে মদ ঢালার দৃশ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এমন বিশালায়তন ও দর্শকাকর্ষক বিজ্ঞাপন বিশ্বের অন্য কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে পারেনি যার পক্ষে এর রেকর্ড ভঙ্গ করা সম্ভব।

( সর্বাধিক দূর থেকে দর্শনযোগ্য বিজ্ঞাপন )

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ওপরে স্থাপিত একটি বৈদ্যুতিক আলো সমন্বিত বিজ্ঞাপন ছিল যাকে টেক্কা দেওয়ার মত দ্বিতীয় কোন বিজ্ঞাপন তৈরী করা সম্ভব হয়নি। উনিশ শ’ পচিশ খ্রীস্টাব্দের চৌঠা জুলাই বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়েছিল। চল্লিশ মাইল দূর থেকে বিজ্ঞাপনটির লেখা স্পষ্ট দেখা যায়। ছাপার মাইল বৈদ্যুতিক তার এতে ব্যবহৃত হয়েছে। আর বৈদ্যুতিক ল্যাম্পের সংখ্যা ? এ-ও অবিশ্বাস্য ব্যাপারই বটে। বিভিন্ন রঙের দু'লক্ষ পঞ্চাশ হাজারটি ল্যাম্প এতে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় উনিশ শ’ খ্রীস্টাব্দে ছত্রিশ এগার বছর আলোর ঝলমলানি দেখিয়ে এটি চিরদিনের মত নিবে যায়।

( অতিকায় বিজ্ঞাপন )

বর্তমান কালের সর্বাধিক আয়তন বিশিষ্ট বিজ্ঞাপনটি দেখা যায় রেনো শহরের কেন্দ্রস্থলের 'সার্কাস সার্কাস হোটেলে’-এর বহির্ভাগে। এটিতে নিওন টিউব ব্যবহার করা হয়েছে। যে-বাক্সের মাধ্যমে আলো জ্বেলে বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শন করা হয় সেটি লম্বায় এক শ’ ফুট। আর ওজন? রীতিমত পর্বত প্রমাণ। চল্লিশ টনেরও বেশী। তার মধ্যে প্রায় দেড়মাইল লম্বা নিওনটিউব প্ৰয়োজন অনুযায়ী বাকিয়ে আর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

( আকাশছোয়া বিজ্ঞাপন )

সর্বাধিক উচ্চতম স্থানে অবস্থিত বিজ্ঞাপনটি বিশ্বের কোন দেশের, কোন শহরে গেলে চাক্ষুষ করা যাবে? টোরান্টোর কাশাডিয়াম প্লেসে 'ব্যাঙ্ক অব মন্ট্রিল'-এর বাহাত্তর তলা ন’ শ' পঁয়ত্রিশ ফুট ওপরে বাড়ির মাথায় একটি বিজ্ঞাপন রয়েছে যা বিশ্বের উচ্চতম স্থানে অবস্থিত বলে দাবী করতে পারে। আর এটি তৈরী করেছে 'ক্লড নিওন ইভোস্ট্রিজ লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞাপনটির দৈর্ঘ্য বাইশ ফুট এবং প্রস্থ কুড়ি ফুট। হেলিকপ্টারের সাহায্যে এটিকে বাড়িটির ছাদের ওপর তোলা হয়েছিল।




সংবাদপত্র-এর নানান আকর্ষণীয় তথ্য


১] আমেরিকার প্রথম সংবাদপত্র

পৃথিবীর প্রাচীনতম সংবাদপত্র (দৈনিক) ষোল শ' পঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহর থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তার নাম ছিল 'ফ্রাঙ্কফুর্টার জাইচুঙ্'। তারও অনেক পরে সতের শ' চার খ্রিষ্টাব্দের সাতাশে এপ্রিল প্রকাশিত হলো আমেরিকার প্রথম সংবাদপত্র-'দি বোস্টন নিউজলেটার'। এটি প্রকাশিত হওয়ার ফলে সংবাদপত্রের এক নতুন দিকদর্শন লাভ সম্ভব হয়।

২] ভারতীয় সংবাদ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান

ভারতের সংবাদ সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে নাম করতে হয় 'এ. পি. আই' (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া) এবং পি. টি. আই (প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের। এদের মধ্যে এ. পি. আই ঊনিশ শ' ঊনিশ খ্রিস্টাব্দে এবং পি. টি. আই ঊনিশ শ' সাতচল্লিশ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়েছিল।

৩] সংবাদপত্রের স্বর্ণযুগ

ঐতিহাসিক ও বিদগ্ধ গবেষকগণ উনিশ শতকে সংবাদপত্রের যথার্থ স্বর্ণযুগ বলে চিহ্নিত করেছেন। এ শতকের গোড়ার দিকে, আঠারো শ' কুড়ি খ্রিস্টাব্দে 'দি অবজারভার' সংবাদপত্রটি প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে প্রথম সংবাদ চিত্র প্রকাশিত হয়। আর সাংবাদিকগণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করলেন। আঠার শ' পঞ্চান্নতে আত্মপ্রকাশ করল 'দি টেলিগ্রাফ'। এর দশ বছর পর। আঠার শ' পঁয়ষট্টিতে জার্মানির পন্ডিত ফ্রেডারিক গ্রীন উড-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হলো 'দিল পলমল গেজেট'। এটি পাঠক মহলে বিশেষ সমাদৃত হল। সংবাদপত্রের ইতিহাসে যুগান্তর আনল আঠার শ' আটচল্লিশ খ্রিস্টাব্দে-প্রতিষ্ঠিত হলো 'আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা'।

৪] ভারতের প্রথম সংবাদপত্র

জার্মানি, লন্ডন এবং আমেরিকা প্রভৃতি দেশে সংবাদপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর কয়েকজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষাব্রতী ভারতেও সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য উদ্যোগী হলেন। তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম করতে হয় স্যার জেমস অগাস্টাস হিকি'র। তিনি কয়েকজন শিক্ষিত ভারতীয় বন্ধুর সক্রিয় সাহায্য-সহযোগিতায় সতের শ' সত্তর খ্রিস্টাব্দের উনত্রিশে জানুয়ারি 'বেঙ্গল গেজেট' নাম দিয়ে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করলেন। প্রায় বারো বছর চলার পর সতের শ' বিরাশি খ্রিস্টাব্দে সংবাদপত্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

৫] লন্ডন গেজেট

লন্ডন গেজেট পত্রিকাটি আজ ইংল্যান্ডের প্রচলিত সংবাদপত্র গুলির মধ্যে সুনামের সঙ্গে প্রচলিত রয়েছে। এটির প্রথম প্রকাশকাল ষোল শ' পঁয়ষট্টি খ্রিস্টাব্দে। সমসাময়িক কালের একজন শিক্ষক হেনরী মুডিম্যান ছিলেন পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক। তিনি প্রথম সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হয় এরকম একটি পত্রিকা 'দি পার্লামেন্টারি ইনটেলিজিসার' নামে পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় এবং তৎপরতায় সাংবাদিকতা যথার্থ মর্যাদা পায়।

৬] সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগের সাংবাদিক

ষোল শ' তিপান্ন খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে আটানব্বই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আসীন ছিলেন রাজা ক্রমওয়েল। তাঁর আমলে সংবাদপত্র বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। সংবাদপত্রের সম্পাদকগণ রাজার কাছ থেকে অর্থ সাহায্য স্বরূপ পেতেন। ফলে কিছু শিক্ষিত, সুচতুর এবং রুচিশীল যুবক সাংবাদিকতাকে বৃত্তি হিসেবে বেছে নিলেন। তাদের মধ্যে মারচ্যামন্ট নেডহ্যাম, হেনরী ওয়েকার, পিটার জনসন প্রমুখ সাংবাদিকের খ্যাতি সবার মুখে মুখে ঘুরে বেড়াত।

৭] উনিশ শতকে আমেরিকায় সংবাদপত্র

উনিশ শতকের মাঝামাঝি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রও সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক নতুন দিক চিহ্নিত করেছিল। আঠার শ' সাতষট্টি খ্রিস্টাব্দে 'সানফ্রান্সিসকো এগজামিনার' নামে সংবাদপত্রটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর এ বিষয়ে সমাদর লাভ করল। এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশিত হল বিভিন্ন ফিচার, রম্য রচনা, ব্যাঙ্গ রচনা, হেডলাইনের গুরুত্ব এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবন চরিত প্রভৃতি।

৮] বাষ্প চালিত মুদ্রাযন্ত্রে মুদ্রিত প্রথম সংবাদপত্র

'দি টাইমস' পত্রিকাটি সংবাদপত্রের ইতিহাসে যথার্থই এক নব যুগের সূচনা করেছিল। জন ওয়াল্টার নামে এক শিক্ষিত ও সমাজ সেবকের সম্পাদনায় সতের শ' পঁচাশি খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সংবাদপত্রের পক্ষ থেকেই প্রথম বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি, সংবাদ সংগ্রাহক ও প্রেরক নিয়োগ, সাংবাদিকের রাজসভায় গমন এবং সংবাদ সংগ্রহ প্রভৃতির ব্যবস্থা করে। তবে 'দি টাইমস'-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে মুদ্রিত সংবাদপত্রগুলির মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী। প্রথমে এটি 'দি ডেলি ইউনির্ভাসাল রেজিস্টার' নামে প্রকাশিত হয়। আঠার শ' অষ্টআশিতে নাম দেয়া হয় 'দি টাইমস'।

৯] প্রাচীনতম সংবাদপত্র

গবেষকদের মতে বিশ্বের প্রাচীনতম সংবাদপত্রের নাম 'পিকিং গেজেট'। তেরোশ পঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দের চীনের 'বেজিং' নগরী থেকে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। আবার কোন কোন পন্ডিতজনের মতে এটি সর্বসাধারণের মধ্যে প্রচারিত ছিল না। সমাজের কিছু সংখ্যক সম্ভ্রান্ত পরিবার ছিল এর পাঠক। তাই এটিকে তারা সংবাদপত্রের মর্যাদা দিতে উৎসাহী নন।

Friday, June 15, 2018

৮ টি অসাধারণ ও মজার তথ্য



১) উমিয়াক ও কায়াক কি?

উত্তরমেরু অঞ্চলে উমিয়াক (মেয়েদের নৌকো) ভারর বহার জন্যে ব্যবহৃত হয়—এ নৌকো খুব বড়-এর উপর কোন আচ্ছাদন থাকে না। এতে মেয়েদের, ছেলেদের ও ঘরকন্যার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কোথাও যেতে গেলে এস্কিমোরা মালপত্র , ছেলেমেয়ে নিয়ে উমিয়াকে চড়ে।
উত্তরমেরুবাসীদের হালকা নৌকোকে বলে কায়াক। তিমির হাড় আর জলে ভেসে আসা কাঠ দিয়ে এই নৌকোর কাঠামো তৈরী হয়। তারপর সীল মাছের চামড়া দিয়ে এর গা ঢাকা দেওয়া হয়। কায়াকে করে একজন মাত্রা যেতে পারে। এর উপর-নীচ সব সীলের চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে। নৌকাচালক এর মধ্যে পা ছড়িয়ে বসে থাকে। এ নোঁকে খুব হালকা আর দ্রুতগামী। এ নৌকা চালানোর কৌশল এস্কিমোরাই জানে। কায়াক সীল ও সিন্ধুঘোটক শিকারের কাজে লাগে। এর দ্বারা বেশী বোঝা বহা যায় না। 


২) তিমি মাঝে মাঝে জলের উপর ভেসে ওঠে ( 
কেন ?


তিমি জলের প্রাণী হলেও মাছ নয়। কুড়ি মিনিট থেকে আধ ঘন্টার বেশী এরা জলের তলায় থাকতে পারে না। শ্বাস নেবার জন্যে এরা মাঝে মাঝে জলের উপর ভেসে ওঠে। এদের মাথার উপর একটা বা একাধিক ফুটো থাকে। এরা প্রথমে এই ফুটো দিয়ে নিঃশ্বাস ছেড়ে দেয়। তখন আমরা ফোয়ারার মতো জল উঠতে দেখি। জলের সঙ্গে মেশানো বাতাসে এরা বাঁচতে পারে ন। তাই এরা মাঝে মাঝে জলের উপর ভেসে ওঠে।


৩) জীবজন্ত ও কীটপতঙ্গরা কি কথা বলতে পারে ?


আমরা যেমন কথা বলি তেমনি অন্য কোনো জীবজন্ত বা কীটপতঙ্গ কথা বলতে পারে না , তবে অনেকে নিজেদের পদ্ধতিতে কথা বলে। কুকুর রাগলে ডাকে , অন্য কুকুরকে বিপদ থেকে সাবধান করে দেবার সময় চেঁচায় , আনন্দ প্রকাশ করতে চীৎকার করে। মা - পাখি বাচ্চাদের উড়তে শেখাবার সময় কত কি বলে তাদের উৎসাহ দেয়। বাছুরের ক্ষিদে পেলে তার মাকে ডাকে। বানরদের নানা ভাষা আছে।
শুয়োরের তীক্স চিৎকার, ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি, ভেড়ার ডাক, হাতির ডাক, গরুর হাম্বারব, গাধার চীৎকার শুনে মনে হয় ওরা যেন মনের কোন ভাব প্রকাশ করে।
ভয় পেলে চীৎকার করে সে ভাব জম্বর পরস্পরের মধ্যে জানিয়ে দেয়।
মৌমাছি, পিপড়ে, উই ইত্যাদি অনেক পতঙ্গও নিজেদের ভাব প্রকাশ করে। তা না হলে এরা এক সঙ্গে কাজ করে কি করে ? পিঁপড়েরা তাদের শুড় দিয়ে জড়িয়ে অন্য পিপড়েকে মনের কথা জানায়।


৪) একটা প্রকান্ড কাঠের গুড়ি জালে ভাসে, কিন্তু একটা ছোট্ট নুড়ি জলে ডুবে যায় কেন ?


কাঠের উপাদানগুলি পাথরের উপাদানগুলির চেয়ে হালকা। কাঠের উপাদানের মধ্যে ফাঁক আছে, কিন্তু পাথরের উপাদানের মধ্যে ফাক নেই, সবটাই নিরেট। জলের উপাদানগুলির চেয়ে যা হালকা জিনিস তা জলে ভাসে আর যেগুলি জলের উপাদানের চেয়ে ভারী তারা ডুবে যায়। কাঠের চেয়ে জলের উপাদান ঘন - তাই কাঠ জলে ভাসে। পাথরের উপাদান জলের চেয়ে ঘন, তাই পাথর জলে ডুবে যায়।


৫) গাছ মাটি ফুড়ে উপর দিকে
ওঠে কেন ?


গাছের সবটাই মাটি ফুড়ে উপরে ওঠে না। তার একাংশ মাটির তলায় চলে যায়-তাকে বলে শিকড়। গাছ যে জন্যে তৈরি সেই কাজ করবার জন্যে বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দিকে যায়। গাছ বীজ থেকে জন্মায়। বীজের মধ্যে কতকগুলো কোষ (cell) থাকে। তাদের কতকগুলো কোষ আলো ও বাতাসে জন্মাবার জন্যে তৈরী। সেই কোষগুলো আলোর দিকে যায়। আর কতকগুলো কোষ অন্ধকারেই ভালো জন্মায়। আর তাদের উপর মাধ্যাকর্ষণও কাজ করে। তারা মাটির বুকের মধ্যেই ভালো জন্মায়।
বীজটাকে উলটো করে পুঁথতে দেখা গেছে যে
তার যে অংশ আলো ও বাতাসে জন্মায় তা আলো
ও বাতাসের দিকে বেঁকে ঘুরে ওঠে আর শিকড়ের
অংশটা মাটির দিকে আপনা থেকেই নেমে যায়।
প্রত্যেক গাছের দুটি অংশ থাকে। একটা চায় আলোবাতাস আর একট৷ চায় মাটির অন্ধকার ও মাধ্যাকর্ষণের টান। কোন তাংশ বাদ দিলে গাছ জন্মাতে পারে না। গাছের নীচের অংশ মাটি থেকে শিকড়ের সাহায্যে জলীয় ধাতব লবণ গ্রহণ করে আর উপরের অংশ তার পাতার সাহায্যে আলো আর বাতাস খাদ্যরূপে গ্রহণ করে।


৬) সকালে আমাদের ঘুম ভেঙে যায় কেন ?


সারারাত আমরা একই ভাবে ঘুমাই না- সারারাতের ঘুমটা একই রকম গভীর হয় না। প্রথমে আমরা খুব গভীরভাবে ঘুমাই-সে ঘুম আমাদের শরীরকে সুস্থ করে। ইংরেজীতে এই রাতের গভীর ঘুমকে বলে beauty sleep. কিন্তু এই গাঢ় ঘুমের পর ক্রমশ আমাদের ঘুম পাতলা হয়ে যায়। গাঢ় ঘুমের সময়ে জোরে শব্দ হলেও আমাদের ঘুম ভাঙে না, কিন্তু পাতল ঘুমের সময়ে সামান্য শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।
সকালের দিকে ঘুম যখন পাতলা হয়ে যায় তখন আলো বা পাখির ডাক বা অন্য শব্দে আমরা জেগে উঠি। মানুষ যখন বাইরে খোলা প্রকৃতির মধ্যে থাকত, তখন তারা আলো ফোটবার সঙ্গে সঙ্গে পাখিদের মতো জেগে উঠত। শরীর ক্লান্ত হলেই ঘুম আসে। ক্লান্তি কেটে গেলে ঘুমের ঝোঁক কমে যায়। আমাদের মস্তিষ্ক আবার জেগে উঠে কাজ করে। তখন সামান্য আলো, সামান্য শব্দ ইত্যাদিতে আমাদের স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে ওঠে, আমরা জেগে উঠি । এছাড়া সকালে ওঠার অভ্যাসও আমাদের ঠিক সময়ে জাগিয়ে দেয়।


৭) খাদ্য ছাড়া কি কোন জীব দীর্ঘকাল বাচতে পারে ?


একজাতীয় মাকড়সা আছে, তারা দীর্ঘকাল খাদ্য না খেয়ে বাঁচতে পারে। এ মাকড়সা জলে থাকে। এর নাম জলভালুক।
এরা ভিজে আবহাওয়ায় থাকে, কিন্তু বাতাস শুকনো হলে এরা শুকিয়ে যায়। এরা তখন নড়াচড়া করতে পারে না। এদের শরীর তখন গুটিয়ে একটা শুকনো বীজের মতো হয়ে যায়। এই অবস্থায় এর মড়ার মতো অনেক বছর পড়ে থাকে। জলে এনে রাখলে এরা জল শুষে ক্রমশঃ পাগুলো ছড়িয়ে দেয়, তারপর নড়াচড়া করে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে এরা চটপটে হয়ে ওঠে আর পায়ের উপর ভর দিয়ে চলে যায়। কয়েক রকম শামুকও অনেক বছর মড়ার মতো খাদ্য ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে।


৮) সবুজ গাছপালা কিভাবে খাদ্য-পানীয়।
গ্রহণ করে ?


সবুজ গাছপালারা শিকড়ের ছোট ছোট চুলের মতো সরু মুখ দিয়ে জল পান করে। প্রত্যেক ঢোঁকে তারা শুধু জলই পান করে না, সেই সঙ্গে নানা রকম ধাতব লবণও খায়। এই সব লবণ জলের সঙ্গে গোলা অবস্থায় থাকে। এই লবণ এরা গাছের পাতায় পাঠিয়ে দেয়। পাতা সেগুলো কাজে লাগায়। শিকড়ের সরু সরু চুলের মতো অংশ দিয়ে গাছ জল পান করে কিন্তু খাদ্য খেতে পারে না। সবুজ গাছপালার আহার তৈরি করে তাদের পাতারা। গ্রীষ্মকালে যখন প্রচুর রোদ থাকে আর একটুও হাওয়া বয় না তখন মনে হয় গাছের পাতারা আলস্যে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখেছেন যে তখন পাতাগুলোর মধ্যে চলে নানা ধরনের কাজ। পাতাগুলো পৃথিবীর খাদ্যের কারখানা। জীবজন্তুরা এই খাদ্য খেয়ে বেঁচে থাকে। যে উপায়ে পাতারা খাদ তৈরি করে তাকে বিজ্ঞানীদের ভাষায় বলে সালোক-সংশ্লেষ। আলো থেকে যে শক্তি তাতেই এ কারখানা চলে। অন্ধকারে এই কাজ বন্ধ থাকে।
সালোক-সংশ্লেষ বুঝতে হলে আমাদের গাছের পাতায় যে ক্লোরোফিল (chlorophyll) আছে তা বুঝতে হবে। ক্লোরোফিল হচ্ছে গাছের পাতার সবুজ অংশ। গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড দিয়ে তাদের খাদ তৈরি করে। আলো এই কাজে গাছপালাকে সাহায্য করে।

Wednesday, June 13, 2018

মনীষীদের ছেলেবেলা সম্পর্কে কিছু মজাদার তথ্য



॥ অবাক-করা ছেলে ॥

দক্ষিণ পশ্চিম ভারতের সমুদ্রতীরে একটি দেশ । নাম তার কেরল । প্রায় বারোশো বছর আগে সেই রাজ্যে এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। নাম তার শংকর । 
শিশুটি যত বড় হয় তত তার নানা রকম গুণ প্রকাশ পেতে থাকে। একবার যা শোনে চিরদিনের জন্য তার মনে তা গেথে যায়। মাত্র তিন বছর বয়সে সে-দেশে প্রচলিত সব ভাষায় যে-কোন বই সে পড়তে পারত।
তখনকার দিনে সবাই টোলে পড়াশোনা করত। শংকরও টোলে ভরতি হল। টোলের এক কোণে বসে সে পড়াশোনা করত। গুরুমশায় অন্যদিকে উপরের শ্রেণীর ছাত্রদের পড়াতেন। সেখানে শাস্ত্রের নানা কঠিন বিষয়ের আলোচনা হত।
শংকরের বয়স তখন মাত্র পাচ বছর । একদিন তার মুখে এক অদ্ভুত কথা শুনে গুরুমশায় চমকে উঠলেন । উপরের শ্রেণীর ছাত্ররা অনেক মাথা ঘামিয়েও যা পারে না তা অতি সহজেই সে বলে দিল। বালক এক কোণে বসে কখন যে উচ্চতর শস্ত্র আয়ত্ত করে ফেলেছে, সে খবর কেউ রাখে না। গুরুমশাই বুঝলেন, বিরাট প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। সেদিনই তিনি শংকরকে ওপরের শ্রেণীতে বসবার অনুমতি দিলেন।
বেদ-বেদান্ত, স্মৃতি, পুরান প্রভৃতি শাস্ত্রে জ্ঞান লাভ করে শংকর টোল ছেড়ে ঘরে ফিরে এলো। তখন তার বয়স সাত বছরও পূর্ণ হয়নি।
এই ছেলে পরবর্তীকালে মহাবিজ্ঞানী শংকরাচার্য।

॥রাজার ছেলে পন্ডিত॥ 

এক বছর আগেকার কথা পূর্ববাংলার বিক্রমপুরের রাজা ছিলেন কল্যানশ্রী। সেই রাজার এক ছেলে ছিল-নাম চন্দ্রগর্ভ, আরেক নাম অতিশ। 
তখনকার দিনে এখনকার মতো বইপত্র ছিল না, আর বিদ্যালয়ও ছিল না। পড়তে হতো পুঁথি, আর যেতে হতো টোলে পণ্ডিতদের কাছে।
অতিশ রাজার ছেলে, তাই তাকে টোলে যেতে হয়নি। পণ্ডিতরাই এসে তাকে বাড়িতে পড়াতেন। কিছুদিন পড়াবার পরই পণ্ডিতরা বুঝতে পারলেন অতীশকে শেখাবার মত বিদ্যা তাদের আর নেই।
রাজা কল্যানশ্রী নানা দেশ থেকে বড় বড় পন্ডিত এনে ছেলেকে নানারকম জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা শেখাতে লাগলেন। অনেক কিছু শিখেও অতীশের আশা মিটলো না। বাংলা দেশ ছেড়ে চললেন বোম্বাইয়ের কাছাকাছি কৃষ্ণগিরি বিহারে। সেখানে রাহুলগর্ভ নামে এক মহাজ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। তার সকল বিদ্যায় তিনি অতীশকে শেখালেন।
দেশে ফিরে অতীশের ঘরে থাকতে মন করল না।তিনি মগধের ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চললেন। সেখানে ছিলেন প্রবীণ পন্ডিত সিল রক্ষিত। পেয়ে তিনি খুব খুশি হলেন। তাঁর প্রতিভা আর জ্ঞান দেখে তিনি এর নাম দিলেন অতিশ দীপংকর। অগাধ জ্ঞানশালী বলে তার আরেক নাম ছিল শ্রীজ্ঞান। অতীশ দীপংকর দুর্গম পথ অতিক্রম করে সুদূর তিব্বতে গিয়ে জ্ঞানের আলো জ্বেলেছিলেন।

॥যিনি রাজার মত সম্মান পেয়েছিলেন॥

জমিদার রামকান্ত রায়ের ছেলে রামমোহন। ফুটফুটে চেহারা, নাদুস নুদুস শরীর। খুব দুরন্ত, তবু লেখাপড়ায় তার ভারী মনোযোগ।
অক্ষর-পরিচয় হতে রামমোহনের দু'তিন দিনের বেশি লাগলনা। ফলা-বানান এবং যুক্ত-অক্ষরও তিনি দু'তিন দিনের মধ্যে শিখে ফেললেন।
সেকালের হিন্দুদের মধ্যে আরবি ও ফারসি শেখার রেওয়াজ ছিল। ওই ভাষা না শিখলে সরকারি কাজকর্মে খুব অসুবিধে হতো। রামকান্ত তাই ছেলেকে আরবি ও ফারসি শেখাবার ব্যবস্থা করলেন।
রামমোহন অল্পদিনের মধ্যে ওই দুটি ভাষা শিখে মৌলভীদের পর্যন্ত তাক লাগিয়ে দিলেন।
তারপর তাকে সংস্কৃতি শেখানো হতে লাগলো। সংস্কৃত ভাষা অতি কঠিন অথচ কয়েক মাসের মধ্যেই রামমোহন সংস্কৃত ভাষায় পণ্ডিত হয়ে উঠলেন। রামমোহনের বয়স তখন খুবই কম। মা তারিনী দেবী ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে গেলেন। তারিনী দেবীর বাবা শ্যাম ভট্টাচার্য শিব পূজা করতেন। তিনি একদিন পূজা শেষ করে একটি বেলপাতা রামমোহনের হাতে দিলেন। বালক রামমোহন বেলপাতাটি মাথায় না ছুঁইয়ে চিবিয়ে খেতে লাগল। শ্যাম ভট্টাচার্য নাতিকে অভিশাপ দিলেন- "তুই বিধর্মী হবি।" 
তারিনী দেবী সে কথা শুনে কান্নাকাটি করতে লাগলেন। তখন শ্যামচরণ মেয়েকে সান্তনা দেবার জন্য বললেন-"তোর ছেলে মহাপন্ডিত হবে, রাজার মত সম্মান পাবে।"
বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের অভিশাপ ও আশীর্বাদ দুই সফল হয়েছিল। রামমোহন ব্রাহ্ম ধর্ম প্রচার করেছিলেন এবং দেশের অনেক কুসংস্কার দূর করেছিলেন। দেশ-বিদেশে তিনি পেয়েছিলেন রাজার মত সম্মান।

॥পন্ডিত মশাই অবাক॥ 

ঈশ্বরচন্দ্রের বয়স তখন চার বছর পাঁচ মাস। পিতা ঠাকুরদাস তাকে পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিলেন। পাঠশালায় পন্ডিত কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায় স্বরবর্ণের পাতা খুলে ঈশ্বরচন্দ্রকে বললেন-"পড়ো অ.আ.ই.ঈ।" দু-তিনবার পড়ানোর পর ঈশ্বরচন্দ্র সবগুলো অক্ষর শিখে ফেলল।
পণ্ডিতমশাই ভাবলেন, স্বরবর্ণ পর্যন্ত সেদিন নতুন ছাত্রটিকে পড়াবেন। কিন্তু ঈশ্বর আরো শিখতে চায়। তখন পণ্ডিতমশাই ব্যঞ্জনবর্ণও তাকে সেখালেন। দু-তিনবার পড়েই সমস্ত ব্যঞ্জনবর্ণ ঈশ্বরচন্দ্রের মুখস্থ হয়ে গেল। শুধু মুখস্ত নয়-লিখতেও সে শিখে ফেলল। পণ্ডিত মশাই অবাক! ঈশ্বরচন্দ্র তিন বছরের মধ্যেই পাঠশালার পড়া শেষ করে ফেলল। পন্ডিত কালীকান্ত একদিন ঠাকুরদাসের এর কাছে বললেন-"আমার পাঠশালায় ঈশ্বর তিন বছরে যা শিখেছে, পাঁ-ছ'বছরেও অন্য ছেলেরা তা পারে না। এবার ওকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়ান।" 
ঐ ছোট বয়সেই ঈশ্বরচন্দ্র বাবার সঙ্গে পায়ে হেঁটে কলকাতা চলল। পথে যেতে যেতে দেখতে পেল মাইলস্টোনের ওপর ইংরেজি অক্ষর। তা দেখে পথের দূরত্ব জানা যায়। একবার করে দেখেই ইংরেজি সব অক্ষর সে শিখে ফেলল।
সংস্কৃত কলেজে ঈশ্বরচন্দ্র মাত্র আট বছর বয়সে ভর্তি হল। এত কম বয়সে কোন ছেলে সংস্কৃত কলেজে এর আগে ভর্তি হয়নি। তার প্রতিভা দেখে অধ্যাপকরাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
সবাই ভেবেছিলেন এই ছেলে বড় হয়ে মস্ত বড় পন্ডিত হবে। সে ভাবনা সত্যি হয়েছিল অতি অল্প বয়সেই ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেছিলেন। আজও সকলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামে মাথা নোয়ায়।

॥বাংলার বাঘ॥ 

আশুতোষ তখন শিশু। বিদ্যালয়ের ছাত্র। এই বয়সে অনেক ছেলে পড়ায় ফাঁকি দিয়ে খেলাধুলা করতে ভালবাসে। আশুতোষের সে সব নেই। পড়াশোনায় তার বেশি মনোযোগ। 
একবার তার কঠিন অসুখ হল। চিকিৎসার পর অসুখ সেরে গেল বটে, কিন্তু শরীরের দুর্বলতা কাটল না। চিকিৎসকরা বিধান দিলেন যে, কিছুদিন পড়াশোনা করা চলবে না, পুরো বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু আশুতোষ পড়াশোনা ছাড়া একটি দিনও থাকতে পারে না। লুকিয়ে লুকিয়ে স্কুলের বই পড়ে। পিতা গঙ্গাপ্রসাদ তা জানতে পেরে ঘর থেকে বই-খাতা-কলম সব সরিয়ে ফেললেন। এমনকি এক টুকরো খড়িও ঘরে রাখতে দিলেন না। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যাতে কোনো উপায়ে ছেলে পড়াশোনা না করতে পারে। 
একদিন গঙ্গাপ্রসাদ বন্ধ ঘরে ছেলে কি করছে তা দেখবার জন্য জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি দেখলেন হাতের কাছে কোনো কিছু না পেয়ে আশুতোষ এক টুকরো কয়লা নিয়ে ঘরের মেঝের উপর লাইন কাটছে। বুঝতে পারলেন, জ্যামিতির কঠিন প্রশ্নের করেছে। গঙ্গাপ্রসাদ অবাক হয়ে গেলেন।
এই বয়সেই আশুতোষের পড়াশোনায় কি আগ্রহ আর কি তার প্রতিভা। সমবয়সী ছেলেদের মধ্যে এমন খুব দেখা যায় না। আর কি অসীম তার সাহস! কোন কিছুতেই সে ভয় করে না। 
এই ছেলে 'বাংলার বাঘ'-আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।

ধন্যবাদ........


Thursday, May 31, 2018

৬ টি মজার তথ্য যা না জানলেই নয়!!!


৬ টি মজার তথ্য যা না জানলেই নয়!!!

১) মৌমাছি গুনগুন করে কেন?

 মৌমাছির গুনগুন শব্দ আসলে তার দুটো ডানা নাড়ার শব্দ। ডানা নাড়ার ফলে বাতাসের প্রতিধ্বনি ওঠে। সেকেন্ডে ৪০০ বারেরও বেশি মৌমাছি ডানা নাড়ে। কখনো কখনো মিনিটে ২৬,০০০ বারেরও বেশি ডানা নাড়ে। গুনগুন শব্দটা দ্রুত ডানা নাড়ানোর ফলে এসব শোনা যায়।

২) বূমেরাং কেন নিক্ষেপকারীর কাছে ফিরে আসে?

অনেকের বিশ্বাস যে অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের ছোড়া বূমেরাং লক্ষ্য বস্তু বা প্রাণী কে আঘাত করে আবার নিক্ষেপকারীর কাছে ফিরে আসে। এ কথা কিন্তু সত্যি নয়। বূমেরাং বাতাস কেটে যায় বলে সোজা যেতে পারে না। এর একাংশ বাতাস কেটে গেল অপরাংশ তা পারে না। কাজেই তাকে আঁকাবাঁকা পথে যেতে হয়। লক্ষ্য বস্তুকে আঘাত করে সেটা থেমে যায়। বিশেষভাবে তৈরি বূমেরাং আবার নিক্ষেপকারীর কাছে ফিরে আসতে পারে। তবে সে রকমভাবে বূমেরাং তৈরি করা ও ছোড়া বুহু অভ্যাসের ফলে হয়। এরকম কৌশল অস্ট্রেলিয়ার খুব সামান্য অধিবাসী জানে। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর বেশ কিছু মানুষ এই কৌশল রপ্ত করে নিয়েছে। যার ফলে তাদের বূমেরাং পুনরায় তাদের কাছে ফিরে আসে। বুমেরাং কাঠের তৈরি, এর ডগায় ধাতুর ফলা লাগানো থাকে।

৩) স্পঞ্জ কি উদ্ভিদ?

অনেকে মনে করে যে স্পঞ্জ একরকম সামুদ্রিক আগাছা। আবার কেউ কেউ মনে করত এগুলো একরকম পোকার বাসা। কিন্তু আসলে স্পঞ্জ একরকম প্রাণী। আমরা যে শুকনো স্পঞ্জ ব্যবহার করি তা হলো প্রাণীর কঙ্কাল। জীবিত অবস্থায় স্পঞ্জের গায়ে ফুটো থাকে এগুলো নালীর মতো। এই নালী দিয়ে জল ভিতের টেনে নিয়ে জলের মাঝখানকার ছোট ছোট পোকা খেয়ে বেচে থাকে এরা। প্রথমে জলে ভেসে বেড়ায়। পরে এক এক জায়গায় জমে পাহাড়ের মত হয়ে যায়।

৪) উড়ন্ত চাকী(flying saucer)কি?

উড়ন্ত চাকরি এক ধরনের উড়ন্ত বস্তু- unidentified flying object(সংক্ষেপে UFO)। রোমান ইতিহাসবেত্তা লিবি বলেন, ২১৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে উড়ন্ত আকাশপথে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপে নেমেছিল। তারপর হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা দেশের আকাশে চ্যাপ্টা, গোলাকার বা লম্বাটে ধরনের UFO আবির্ভাব ঘটেছে বলে শোনা যায়। অনেকে বলেন UFO দৃষ্টিভ্রম। উড়ন্ত চাকরি বলে কিছু নেই।

৫) সবচেয়ে দ্রুতগামী জীব কোনটি?

মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব। কিন্তু সে সবচেয়ে দ্রুতগামী নয়। শুয়োর ঘন্টায় 11 মাইল ছুটতে পারে। শিকারি কুকুর ঘন্টায় ৩০ মাইল ছুটতে পারে। আর ঘোড়া ঘণ্টায় ৪০ মাইল ফুটতে পারে। হরিন ঘন্টায় ৫৯ মাইল ছুড়তে পারে। চিতাবাঘ শিকার করবার সময় ঘণ্টায় ৭০ মাইল ছুটতে পারে।
জন্তুরা এর বেশি ছুটতে পারে না। কিন্তু পাখিদের ক্ষমতা এর চেয়ে অনেক বেশি। শকুন ঘন্টায় ৪৯ মাইল উড়তে পারে। সোনালী ঈগল ঘন্টা ১২০ মাইল উড়তে পারে। এক রকম জাতীয় পাখি ১৬০ থেকে ১৮০ মাইল উড়ে শিকার ধরে ম।
কেউ কেউ হিসেব করে দেখেছেন যে কয়েক জাতীয় পতঙ্গ ঘন্টায় ৮১৮ মাইল পর্যন্ত উড়তে পারে।

৬) ধোয়া কি?

কোন জিনিস ঠিকমতো না পুড়লে তা থেকে ধোয়া হয়। যেসব জিনিস পোড়ালে ধোয়া হয় সেগুলোর ঠিকভাবে পুড়লে গ্যাস হত, ধোয়া হত না। আমরা যা পোড়াই তা আংশিকভাবে পোড়ে আর  অসম্পূর্ণভাবে পোড়া অংশ থেকে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। অনেক শহরের ধোঁয়া, কুয়াশা সৃষ্টি করে দিনের আলোর অনেকটা ঢেকে দেয়। এছাড়া সব কিছু নোংরা ও ময়লা করে দেয়। ধোয়া গাছপালার ক্ষতি করে আর আমাদের ফুসফুসে ঢুকে ফুসফুসের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয় ও অনেক রোগের সৃষ্টি করে।

এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।