Showing posts with label জ্ঞান আহরন. Show all posts
Showing posts with label জ্ঞান আহরন. Show all posts

Saturday, June 16, 2018

ম্যারাথন ও থার্মপলির যুদ্ধ


《 ম্যারাথন ও থার্মপলির যুদ্ধ 》

প্রাচীন গ্রীস যে এক সময় সভ্যতার খুব উচু- তলায় উঠেছিল এ কথা তোমরা নিশ্চয়ই জান। গ্রীসে যখন নগর-রাষ্ট্র গড়ে উঠছে ঠিক সেই সময় পারসিক সম্রাট এশিয়া মাইনরের গ্রীক রাষ্ট্রগুলি এক এক করে দখল করে নিচ্ছেন। এই পারসিক সম্রাটদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন রাজা দারায়ুস।
দারায়ুসের আমলে এশিয়া মাইনরের গ্রীক উপনিবেশবাসীরা এক বিদ্রোহ করে বসল। ইতিহাসে এই বিদ্ৰোহ আইওনিয়ান বিদ্রোহ বলে খ্যাত। এথেন্স এবং আরো কিছু গ্রীক নগরী এই বিদ্রোহকে সমর্থন করল, বিদ্রোহে তারা যোগও দিল। এথেন্সবাসীরা পারসিক সাম্রাজ্যের এশিয়া মাইনরের রাজধানী সারদিস নগরে আগুন জ্বালিয়ে দিল। পারসিকদের রাজধানী পুড়ে শেষ হয়ে গেল ।
বলা বাহুল্য, এই ঘটনা রাজ দারায়ুসের মনেও আগুন ধরিয়ে দিল। সেই সঙ্গে বিদ্রোহের আগুন মিলে হল একাকার। দারায়ুস প্রতিজ্ঞা করলেন এথেন্সকে শাস্তি দিতে হবে। জয় করতে হবে এথেন্স। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রস্তুত হল ছ’শো জাহাজ। এই জাহাজে করে চল্লিশ হাজার সৈন্য চলল এথেন্স অভিমুখে।
পাহাড়ে ঘেরা গ্রীস দেশ ; তার তিন দিকে সমুদ্র। এথেন্সের বাইশ মাইল উত্তর-পূর্বে ম্যারাথন বলে। একটি জায়গা আছে। দারাসের সৈন্যরা সেখানে যুদ্ধের তাবু বসাল। এদিকে এথেন্সের সৈন্যসংখ্যা ছিল মাত্র ন’ হাজার। কিন্তু মিলটিয়াডিস নামে একজন সেনাপতি এই ন’হাজার সৈন্য নিয়েই যুদ্ধের নেতৃত্ব করলেন। পথে আরও এক হাজার সৈন্য সংগ্রহ হল। মোট দশ হাজার সৈন্য ম্যারাথনের যুদ্ধক্ষেত্রে পারসিকদের আক্রমণ করল। গ্রীকরা যুদ্ধ করতে লাগল তাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। আশ্চর্য বীরের জাতি তারা। জীবন-মরণ সমস্ত কিছু তথন তাদের কাছে তুচ্ছ। তাদের প্রচণ্ড আক্ৰমণে পারসিকরা সহ্য করতে পারল না। কোনও রকমে তারা জাহাজে উঠতে পারলে বাঁচে। গ্রীকরাও তাড়া করে করে বহু পারসিককে মেরে ফেলল। অবশিষ্ট যারা ছিল তারা কোনও রকমে দেশে ফিরে এল।
ম্যারাথন যুদ্ধে হেরে গিয়ে সম্রাট দারাযুস আরও  ক্রুদ্ধ হলেন। পরাজয়ের প্রতিশোধ তাকে নিতেই হবে। কিন্তু এবার আর সৈন্যদের পাঠিয়ে নয় ; তিনি নিজেই যুদ্ধে যাবেন স্থির করলেন । শেষ পর্যন্ত বাসনা পূর্ণ হল না দারায়ুসের।
তার মৃত্যু হল অল্পদিন পরে। এবার পারস্যের সম্রাট হলেন তার ছেলে জেরাক্সেস। জেরাক্সেস পিতার উপযুক্ত পুত্র। পিতৃসত্য রক্ষা করতে তিনি নিজেই চললেন এথেন্সে। বিরাট স্যৈবাহিনী নিয়ে পারস্যরাজ এসে পৌছলেন থ্রেস ও ম্যাসিডোনিয়ার ভিতর দিয়ে থার্মপালি গিরিবত্মে -র কাছে। 
থার্মপালি এক আশ্চর্য যুদ্ধক্ষেত্ৰ। পাহাড়ের মধ্যে সরু পথ । সেই পথে সাত হাজার গ্রীক সৈন্য জেরাক্সেসের অগণ্য সেনার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই খবর পৌছল জেরাক্সোসের কাছে।
পারস্য-সম্রাট অল্প কয়েকজন সৈন্যকে গ্রীকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পাঠালেন। তারা হেরে গিয়ে ভয়ে পালিয়ে এল। আবার একদলকে পাঠালেন জেরাক্সেস। তারাও একই ভাবে ফিরে এল। এবার পারস্যরাজ তার নিজস্ব বাছাই-কর দলটি পাঠালেন। এবারেও একই দশা। তারাও মার খেয়ে পালিয়ে এল।
জেরাক্সেস ভীষণ ভয় পেয়ে গেলেন। থার্মপলির ঐটুকু গিরিপথে বেশী সৈন্য নিয়েও ঢোঁকা যায় না, আবার অল্প সৈন্যকে গ্রীকরা অনায়াসেই হারিয়ে দেয়। জেরাক্সেস ন'শো জাহাজ নিয়ে এসেছিলেন, আর গ্রীকদের ছিল মাত্র তিনশো জাহাজ। ঐ জাহাজে করে অন্য পথে জেরাক্সেস সৈন্য পাঠাতে চেষ্টা করলেন। এবারও গ্রীকরা প্রাণপণে বাধা দিল। শুধু তাই নয়, একদিন রাত্রে দারুণ ঝড়ে পারস্যরাজের অনেক জাহাজ ডুবে গেল।
দুর্দিনে অন্য পথে আলো আসে। সেই আলো হয়ে জেরাক্সেসের কাছে এল একজন বিশ্বাসঘাতক গ্রীক। সে জানাল যে, থার্মপলি ছাড়া অন্য পথ দিয়ে সে জেরাক্সেসের সৈন্যদের নিয়ে যেতে পারবে। পারস্য-সম্রাট খুশী হয়ে শুধু রাজীই হলেন না, সঙ্গে সঙ্গে একদল সৈন্যকে পাঠিয়ে দিলেন। তারা অনেক ঝোপ-জঙ্গল পেরিয়ে ঘুরপথে, পিছন দিক থেকে থার্মপলিতে গ্রীকদের আক্রমণ করল।
গ্রীকরা বুঝল আর উপায় নেই। তাদের নেতা স্পার্টার বীর রাজা লিওনিডাস গ্রীকদের রক্ষা করার জন্য অধিকাংশ সৈন্যকে পেছনে পাঠিয়ে দিলেন। মাত্র তিনশো স্পার্টান সৈন্য নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সেই মরণপণ যুদ্ধে। সামনে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু, তবু তারা যুদ্ধ করছে নির্ভীকভাবে। পারসিকদের অনেক সৈন্য তাদের হাতে মারা পড়ল। তবু শেষ পর্যন্ত এরা সবাই মৃত্যু বরণ করল।
থার্মপলির যুদ্ধে গ্রীকদের হার হয়েছে খবর পেয়েই চলে গ্রীক জাহাজগুলো গেল এথেন্সে। সেখান থেকে সমস্ত নারী, শিশু আর বৃদ্ধদের তারা সরিয়ে দিতে লাগল আশপাশের দ্বীপগুলোতে। জেরারোস যখন এথেন্সে এসে পৌছলেন, তখন  সারা শহর অন্ধকার। শুধু পাহাড়ের উপর একটি মন্দির ছিল। কয়েকজন গ্রীক সমবেতভাবে এবারই বাধা দিল জেরাক্সেসকে। পারসিকদের হাতে সবাই নিহত হল। জেরাক্সেস এথেন্স শহরকে ধ্বংস করার হুকুম দিলেন। বেশির ভাগ গ্রীক তথন সালামিস দ্বীপে চলে গিয়েছিল। পারস্যরাজ এই দ্বীপের গ্রীকদের আক্রমণ করার জন্য তার সব জাহাজ পাঠিয়ে দিলেন। এবারে জাহাজে-জাহাজে অর্থাৎ গ্রীক জাহাজের সঙ্গে পারসিক জাহাজের যুদ্ধ চলল। এই যুদ্ধে কিন্তু গ্রীকরা জয়ী হয়েছিল। আর এথেন্সের কাছে এক পাহাড়ের উপর মার্বেল পাথরের সিংহাসনে বসে পারস্য-সম্রাট জেরাক্সেস সেই যুদ্ধ দেখেছিলেন।

Friday, June 15, 2018

ডাকটিকিট-এর নানা কথা



<-খেয়ালের রাজা->

“ডাকটিকিটের রাশি-আমি ভালবাসি , 
যদি তা, পুরোনো হয়-ব্যবহার করা,
ছেড়া কাঁটা, ছাপমার, স্বদেশী, বিদেশী ; 
তা সবে পরশি যেন হাতে পাই ধরা ! ”
এটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা। তিনি ডাকটিকিট জমাতে ভালবাসতেন । ডাকটিকিট জমানোর শখ সারা পৃথিবীজোড়া একটা মজার খেয়াল। এই শখকে বলে 'খেয়ালের রাজা আর রাজ-রাজড়াদের খেয়াল' (the king of hobbies and the hobby of kings).  ভোবে না যে , এটা একটা ছেলেখেলা ; অনেক বয়স্ক লোক এই খেয়ালে মেতে আছেন। দেশ- বিদেশের টিকিট তো এমনি পাওয়া যায় না ! তাদের কিনতে হয়। কোন কোন টিকিট অনেক কষ্টে পাওয়া যায় বলে তাদের দাম বেড়ে যায়। কাজেই রীতিমতো সবরকম টিকিট জোগাড় করতে অনেক টাকা লাগে। কোন দেশের একটা নতুন টিকিট বেরুলে সে দেশের লোকেরা তাদের চিঠিপত্রে সেটা ব্যবহার করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর যত টিকিট-সংগ্ৰহকারী সেটা সংগ্রহ করতে উৎসাহী হয়। অনেকে বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে সেটা সংগ্রহ করে ফেলে। যারা সংগ্রহ করতে পারে না তারা যায় টিকিটের দোকানে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী তার দাম বাড়ে বা কমে। 

<-আধখানা ডাকটিকিটে বাইবেল->

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন বহু গুণী লোক রয়েছেন যাঁরা ধৈর্য, নিষ্ঠা ও
অধ্যাবসায় সম্বল করে দীর্ঘদিনের অনুশীলনের ফলে এমন ক্ষুদে অথচ স্পষ্ট অক্ষর লিখতে পারেন যা লিখতে পারা তো দূরের কথা আমরা কল্পনা করতে উৎসাহ পাই না। লণ্ডনের মিঃ সুইফট ক্ষুদে ক্ষুদে অক্ষর লিখে পৃথিবীতে এক অনন্য নজীর সৃষ্টি করেছেন। তিনি উনিশ শ’ আটষট্টি খ্রীস্টাব্দে আধখানা ডাকটিকিটের গায়ে বাইবেলের প্ৰাৰ্থনা পচিশবার লিখেছিলেন। তিনি প্রতি বর্গ মিলিমিটারে সাইত্রিশটি হরফ লিখে
রেকর্ড গড়েন।

<-ক্ষুদ্রতম ডাকটিকিট->

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ডাকটিকিটটির প্রচলন ভবলিভিয়ার অন্তর্গত কলম্বিয়া রাষ্ট্রে। আঠার শ’ তেষট্টি থেকে ছেষটি খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ওই বিশেষ টিকিটটি চালু ছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ৮ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ০.৩৭ মিলিমিটার। কলম্বিয়া সরকার খরচ বাঁচাবার জন্য ক্ষুদ্রতম টিকিটটি দশ- সেন্ট ন’ পেসো মূল্য নির্ধারণ করে চালু করে।

<-বৃহত্তম ডাকটিকিট->

বর্তমানে প্রচলিত বিশ্বের বৃহত্তম ডাকটিকিটটির দৈর্ঘ্য সাড়ে চার ইঞ্চি এবং প্রস্থ সাড়ে তিন ইঞ্চি। এর মূল্যমান আড়াই শ’ মিলস। সাইপ্রাস সরকার উনিশ শ’ চুয়াত্তর খ্রীস্টাব্দের দোসরা জুলাই এই অতিকায় ডাকটিকিটটি চালু করেন। আজও এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে এক সময় চীন দেশে এর চেয়েও বড় একটি টিকিট চালু ছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল পৌনে দশ ইঞ্চি এবং প্রস্থ পৌনে তিন ইঞ্চি। এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য উনিশ শ’ তেরো খ্রীস্টাব্দে চীন সরকার এটি চালু করেছিলেন। এখন সে দেশের সরকার স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ কয়েকটি টিকিট সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

<-ডাকটিকিটের নিলাম->

এই তো মাত্র কয়েক বছর আগে মার্কিন দেশের এক অত্যুৎসাহী ভদ্রলোক দুটি মাত্র পুরনো ডাকটিকিট তিন লক্ষ আশি হাজার ডলারের বিনিময়ে নিলামে কিনেছেন। ইতিপূর্বে এত দামে ডাকিটিকিট কেনাবেচা বিশ্বের অন্য কোন দেশে হয়েছে বলে জানা যায়নি। টিকিট দুটোর প্রতিটির আসল দাম ছিল এক পেনি ক’রে। মরিশাস দ্বীপে ওই দুটো ডাকটিকিট গুলো এক সময় চালু ছিল। কমলা রঙবিশিষ্ট টিকিট দুটোর গায়ে আঠারো শ’ সাতচল্লিশ খ্রীস্টাব্দ ছাপা ছিল। আর কালি দিয়ে মরিশাস দ্বীপের সীলমোহর অঙ্কিত ছিল। এতে প্রমাণ হচ্ছে, ডাক টিকিট দুটো মরিশাস দ্বীপের এবং ব্যবহার করাও হয়েছিল সেখান থেকেই।

<-সর্বাধিক মূল্যের টিকিট->

একই দেশে ব্যবহৃত ডাকটিকিটের মূল্যমানের তারতম্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়। চিঠি, মানিঅর্ডার প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্যমানের টিকিট ব্যবহার করা হয়। আজ পর্যন্ত (উনিশ শ’ বিরানব্বই খ্রীঃ) বিশ্বের সর্বত্র যত মূল্যমানের ডাকটিকিট ছাপা হয়েছে তাদের মধ্যে কেনিয়া থেকে উনিশ শ’ পচিশ খ্রীস্টাব্দে রাজা পঞ্চম জর্জের মুখওয়ালা ডাকটিকিটের মূল্যই সবচেয়ে বেশী। টিকিট যেটি ছাপা হয়েছে তার দাম একশ’ পাউন্ড। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি রেভিনিউ স্ট্যাম্প হিসাবে ব্যবহৃত হত।

এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

Thursday, June 14, 2018

ঘুড়ি সম্পর্কে অবাক করা কিছু কথা



যুদ্ধে ঘুড়ির ব্যবহার

খ্রীস্টপূর্ব ছিয়ানব্বই অব্দের কথা । চীনা সেনাপতি হান সিনাত্র শত্ৰু শিবিরের দূরত্ব মাপার জন্য অভূত এক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শত্রু শিবিরের দূরত্ব জানতে পারলে সুড়ঙ্গ কেটে চারদিক থেকে তাদের শিবিরকে ঘিরে ফেলবেন। বহু চেষ্টা করেও উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে পারলেন না। বিষগ্ন মনে উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টায় ব্রতী হলেন দোর্দণ্ড প্ৰতাপ সেনাপতি। হঠাৎ তার মাথায় চমৎকার একটি মতলব এল। ব্যস, আর দেরী নয়, দিলেন আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে। সূতো ছেড়ে ঘুড়িটিকে নিয়ে গেলেন শত্রু - শিবিরের মাথার ওপর । গোঁত্তা মেরে সেটিকে নামিয়ে আনলেন একেবারে শিবিরের কাছাকাছি। এদিকে আকাশে রঙিন ঘুড়ির খেলা দেখে শত্রুপক্ষের সৈন্যরা মজা লোটা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারল না। সেনাপতি হানসিন এবার ঘুড়িটিকে নামিয়ে আনলেন । সুতোর দৈর্ঘ্য মেপে শত্ৰ - শিবিরের দূরত্ব সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা করে যেতে তাথ অসুবিধে হল না। এবার সৈন্যরা কোদাল - শাবল নিয়ে মেতে গেল সুড়ঙ্গ তৈরীর কাজে। এক সময় সুড়ঙ্গ পথে হানসিন - এর সৈন্যরা রাত্রির অন্ধকারে হুড়মুড় করে শত্রু - শিবিরে ঢুকে পড়ল। শত্রুপক্ষের সৈন্যরা তখন নিশ্চিন্তে নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙার আগেই হাসিন-এর সৈন্যরা তাদের কচুকাটা করল । যুদ্ধে জয়লাভ করে বিজয় - পতাকা উড়িয়ে দিল । ঘুড়ির কেরামতিই তাদের যুদ্ধের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করল , অস্বীকার করার উপায় আছে কি ? 

গৃহযুদ্ধে ঘুড়ি 

ঘুড়িকে যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এরকম নজীর ভুরি ভুরি রয়েছে। এবার আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা বলছি । আঠার শ ’ চৌষট্টি - পয়ষট্টি খ্রীস্টাব্দে আমেরিকার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়েছিল । সে বছর গৃহযুদ্ধের আগুনে আমেরিকা দাউ দাউ করে জ্বলছিল। অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল । তখন গৃহযুদ্ধের গতি প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্তব্যের কথা জনগণের মধ্যে প্রচারের জন্য অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। ঘুড়ির সাহায্যে ছাপানো হাজার হাজার প্রচারপত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল । 

যুদ্ধে প্রথম ঘুড়ির ব্যবহার

এবার আরও বছর পঞ্চাশেক এগিয়ে এলে দেখতে পাব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অর্থাৎ উনিশ শ’ তেরো-চৌদ্দ খ্রীস্টাব্দে ঘুড়িকে যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তখন বিশালায়তন ঘুড়িতে চেপে শত্ৰ-শিবিরের খোঁজখবর নেয়া হয়েছিল এরকম বহু নজীর হয়েছে। তবে তখন গ্যাস বেলুনে চেপে ওপরে ওঠা এবং বাতাসে ভর দিয়ে পথ পাড়ি দেবার কৌশল মানুষ রপ্ত করে ফেলেছে। শত্রুপক্ষের খবরাখবর সংগ্রহ করতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ঘুড়ি ছাড়াও বহু গ্যাস বেলুনকে যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

চোরাকারবারে ঘুড়ির কীর্তি

এবার আর যুদ্ধের কাজে নয়, চোরাকারবারীরা কিভাবে ঘুড়িকে ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ পাউন্ড কামিয়ে নিত সে সম্বন্ধে দু’চার কথা আলোচনা করা যাক। উনিশ শতকে ফরাসী দেশে চোরাচালানকারীদের খুব উৎপাত শুরু হয়। তাদের এ কাজের সবচেয়ে বড় সহায়ক ছিল ঘুড়ি। সোনাদানা থেকে শুরু করে গাঁজা, আফিং প্রভৃতি হাল্কা
এবং বহুমূল্য সামগ্রী ঘুড়ির সঙ্গে বেঁধে দূরবর্তী অঞ্চলে চালান দিত।


ঘুড়ির টানে নৌকা চলে

উনিশ শ’ তিন খ্রীস্টাব্দে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের এক যুবকের মাথায় চমৎকার এক ফন্দি এল। তার সাধ হল ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করবে। তাই বলে কোমরে
ঘুড়ির সূতো বেধে অবশ্যই নয়। তবে ? অতিকায় একটি ঘুড়ির সুতো দিল নৌকোর সঙ্গে বেধে। ব্যস, ঘুড়ির টানে দিব্যি নৌকাটি দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দিয়ে ফেলল।

ব্যর্থ মনোরথ

ইশিকাওয়া নামে এক চোর ছিল। খুবই সুচতুর ছিল সে। ফলে নিত্য নতুন চুরির কৌশল বের করে দু’হাতে টাকা ঘরে তুলতে লাগল ইশিকাওয়া। মহাধুরন্ধর ছেলেটি
একবার মতলব আঁটলো রাজার দুর্গের চূড়ায় যে সোনা ও মণিমুক্তা খচিত ডলফিন মূর্তিটি রয়েছে সেটি চুরি করবে। কিন্তু হাজারো সমস্যা তাতে। মূর্তিটি অনেক উচুতে অবস্থিত। আর দুর্গের চারদিকে উচু প্রাচীর।টপকানো বড়ই কঠিন। তার ওপর বড় সমস্যা হচ্ছে, সশস্ত্র প্রহরী সর্বদা টহল দিচ্ছে। এখন উপায়? অত্যুগ্র ইচ্ছাশক্তিই তার মাথায় মতলব এনে দিল। বিশালায়তন একটি ঘুড়ি বানিয়ে ফেল ইশিকাওয়া। এবার সদ্য তৈরী ঘুড়িটি নিয়ে গেল দুর্গের প্রাচীরের বাইরে। সঙ্গে করে নিয়ে গেল। তার কয়েকজন সঙ্গীসাথীকে। এবার ঘুড়ির সঙ্গে নিজেকে বাঁধল। অর্থাৎ একটি খাঁচার মধ্যে নিজে গুটিগুটি হয়ে বসল। ঘুড়ির সঙ্গে সঙ্গীরা খাঁচাটিকে বেঁধে দিল। ব্যস, এবার খাঁচাসমেত ঘুড়িটি উড়ল আকাশে। দমকা বাতাসের টানে ঘুড়িটি উঠতে লাগল। ছেলেরা ঘুড়িটিকে নিয়ে গেল দুর্গের চূড়ার কাছে। এবার সে হাত বাড়িয়ে সোনার ডলফিনের পাখনাটি ধরার চেষ্টা করল। বরাত মন্দ। এক গোত্তা মেরে ঘুড়িটি সামান্য সরে গেল, চলে গেল বেশ কিছুটা দূরে। কেবলমাত্র ডলফিনের ঝকঝকে চকচকে সোনার পাখনাটি রয়ে গেল তার হাতের মুঠোয়। বরাত মন্দ। তার সঙ্গী সাথীরা বহু চেষ্টা চরিত্র করেও ঘুড়িটিকে আর মূর্তিটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারল না। বার বার চেষ্টা করেও যখন অভীষ্ট সিদ্ধ করতে পারল না। তখন ছেলের দল অনন্যোপায় হয়েই ইশিকাওয়াকেসহ ঘুড়িটি নামিয়ে আনল। পাখীর ডাকে সকাল হল। পূর্ব আকাশে দেখা দিল রক্তিম সূর্যের আভা। দেখতে দেখতে সোনালী রোদ দেখা দিল গাছের মাথায় মাথায় আর দুর্গের চূড়ায়। হঠাৎ প্রহরীদের নজর পড়ল ডলফিনের মূর্তিটির দিকে। হায় হায় করে উঠল তারা। ডলফিনের একটি পাখনা গেল কোথায়। এ যে কেলেঙ্কারী হয়ে যাবে! রাজা গর্দান না-নিয়ে ছাড়বেন না। এখন উপায়! বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল চুরির খবরটি। দলে দলে সশস্ত্র সৈন্য পাড়ায় পাড়ায় টহল দিতে লাগল। ইশিকাওয়াকে ধরতে দেরী হল না। বামালসমেত ধরে ফেলল। ঘুড়িতে ওড়া বিশ্বের প্রথম মানুষটিকে জলে ডুবিয়ে শাসরুদ্ধ করে মারা হল। তার আবিষ্কার মর্যাদা পেল না। চুরির করার শাস্তি যে পেতেই হবে চোরকে। বুদ্ধির দাম দিতে গিয়ে চোরকে তো আর প্রশ্রয় দিয়ে আইন ভাঙা যায় না।

Sunday, April 29, 2018

ভারতের প্রথম ডাকটিকিট কী ?

                ভারতের প্রথম ডাকটিকিট কী ?

ভারতের প্রথম ডাকটিকিট- ১৯৫৪ ঘটাব্দে ভারতবর্ষে ডাকটিকিট প্রচলনের শতবর্ষ পূরণ হওয়৷ উপলক্ষে দিল্লীতে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে ১৮৫৪ খ্রীস্টাব্দ থেকে সে সময় পর্যন্ত ছাপা টিকিটের একটি রঙিন অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল।

আসলে কিন্তু ১৮৫২ খ্রীস্টাব্দের ১লা জুলাই সিন্ধু
প্রদেশে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশ এখন পাকিস্তানভুক্ত হওয়ায় ভারতে প্রথম ডাকটিকিটের তারিখ ১৮৫৪ খ্রীস্টাব্দ ধরে শতবার্ষিকী প্রতিপালিত হয় ১৯৫৪ খ্রীস্টাব্দে।

১৮৫২ খ্রীস্টাব্দের ১লা জুলাই সিন্ধু প্রদেশে যে ডাক টিকিট প্রকাশিত হয় তারও আগে ভারতে দুই রকম ডাকটিকিট ১৮৫০ খ্রীস্টাব্দে ছাপা হয়েছিল।
তাতে সিংহ ও তালগাছের নকশা ছিল। ঐ টিকিটগুলি কলকাতার টাকশালে ছাপা হয়েছিল। এ টিকিটগুলি শেষ পর্যন্ত চালানো হয়নি। ১৮৫২ খ্রীস্টাব্দের ১লা জুলাই যে টিকিট চল হয় তাতে লাল, সাদ ও নীল এবং একটি গোলাপি বেল্টের মাঝখানে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির তীর আঁকা একটি নকশা ‘এম্বস্’ করে দেওয়া হত, আর ইংরেজিতে লেখা থাকতো 'Scinde District Dawk' (সিন্ডে ডিশট্রিক্ট ডওক) . প্রত্যেকখানি টিকিটের মূল্য ছিল দু পয়সা । এ সব পুরোনো টিকিটের বর্তমান দর কয়েক শো টাকা। পুরোনে লাল রঙের টিকিটের দাম কয়েক হাজার টাকা।



১৮৫৫ খ্রীস্টাব্দে ডিলা রু অ্যান্ড কোম্পানির
বিলাতের ছাপাখানায় চার আনা দামের একরকম
টিকিট ছাপা হয়। ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দ থেকে নাসিক শহরে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে ভারতীয় ডাকটিকিট ছাপাবার ব্যবস্থা হয় । গান্ধী-স্মারক ডাককিটগুলি ফটোগ্রেভিওর পদ্ধতিতে সুইজারল্যান্ডের কুতভয়জিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপিয়ে আনা হয়। পরে ভারতেই ফটোগ্রেভিওর পদ্ধতিতে টিকিট ছাপা হয়।


ভারত স্বাধীন হবার পর নানা রকম স্মারক
টিকিট বেরিয়েছে। এগুলি সংগ্রহ করা এক মহা
সমস্যা। এখন শুধু ভারতীয় টিকিট সংগ্রহ করাও
কারো কারো শখ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে এ সংখ্যা মাত্র গুটিকয়েক মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেননা বর্তমানে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ এর যুগে ভারতীয় টিকিট সংগ্রহ করার প্রবনতা আজ-কালকার ছেলেদের মধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে।

১৮৫৫ থেকে খ্রীস্টাব্দ ভারত সরকারের সঙ্গে
ব্যবস্থা করে দেশীয় ও করদ রাজ্যগুলি নিজস্ব
ডাকটিকিট ছাপা শুরু করে। চাম্বা, গোয়ালিয়র,
ঝিন্দ, পাতিয়ালা, ভূপাল, নাভা, কোচিন ইত্যাদি
নিজ নিজ ডাকটিকিট ছাপাতে থাকে। এখন
এ সব রাজ্যের হয়ে দেশীয় টিকিট দুষ্প্রাপ্য
উঠেছে।

ভারতের প্রথম ডাকটিকিট কী ? আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।


Friday, April 20, 2018

প্রথম হাড়ওয়ালা প্ৰাণী—মাছ

সবার আগে যেসব অস্থিক বা হাড়ওয়ালা প্ৰাণী পৃথিবীতে দেখা দিয়েছিল তাদের বংশধররা কিন্তু আজও টিকে আছে এবং আমাদের, বাঙ্গালীদের, সেটি এখন প্রতিদিনের একটি প্রিয় খাদ্য । এই প্রাণী আর কেউ নয়-মাছ।


প্রাচীনকালে মাছেদের শরীরের অনেকটাই- বিশেষ করে মাথার দিকটা থাকত খোলা দিয়ে ঢাকা। বাইরের গড়নটার একালের মাছের সঙ্গে বেশ খানিকটা মিল থাকলেও হুবহু একালের মাছের মতো ছিল না।

বেঁচে থাকতে হলে সকলকেই শ্বাস নেবার জন্য বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়। মাছেদেরও তা করতে হয়। বাতাসের মধ্যেই প্রধানত অক্সিজেন বেশী থাকলেও কিছু অক্সিজেন জলে-গোলা অবস্থায়ও পাওয়া যায়, আর মাছেরা,—শুধু মাছ কেন, ঐরকম জলের জীবরাই,-এই জলে-গোলা অক্সিজেনই শ্বাস গ্রহণের জন্য ব্যবহার করে। ডাঙ্গায় প্রাণীদের অক্সিজেন নেবার  জন্য ফুসফুস আছে, কিন্তু মাছেদের তা নেই। তার বদলে আছে কানকো বা ঝিল্লী। এই কানকোর সাহায্যেই ওরা জলে-গোলা অক্সিজেন টেনে নিতে পারে। ফুসফুস না থাকায় ডাঙ্গায়, তুললেই মাছ মরে যায়।


তবে কই-জাতীয় কয়েকটি মাছ ডাঙ্গায় তুললেও বেশ খানিকটা সময় বেঁচে থাকতে পারে। এর কারণ, কানকো ছাড়াও ওদের একটা করে অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে। তবে দুই-এক জাতের মাছের ফুসফুসও দেখা যায়। সেটা সাধারণ নিয়ম নয়-কানকো ছাড়া,মাছের শরীরে থাকে একটা বাতাস-ভরা থলি, যাকে আমরা বলি মাছের পটকা। এই পটকাই মাছকে জলে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

মাছের মধ্যে অনেক কিম্ভুতকিমাকার মাছও দেখা যায়, যেমন ‘চারচোখো’ মাছ। লণ্ঠন মাছ। থাকে সমুদ্রের একেবারে নীচের দিকে, সেখানে গভীর অন্ধকার। এদের দেহের দুপাশে সারি সারি কতকগুলো টর্চের বালবের মতো জিনিস বসানো ; থেকে থেকে সেগুলো জ্বলে ওঠে আর তারই আলোয় মাছ দিব্যি জলের তলায় সব কিছু দেখে নিতে পারে।

কোন কোন লণ্ঠন মাছের আবার শুধু একটাই লন্ঠন সম্বল। কোন কোন মাছ আবার বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। বৈদ্যুতিক বান মাছ (ইলেকট্রিক ঈল) এই জাতীয় মাছ। এই জাতের কোন কোন বান মাছ ৫০০ ভোল্টের বিদ্যুৎও তৈরি করতে পারে। উড়ক্কু মাছ বা ফ্লাইং ফিশ লাফ দিয়ে জলের উপরে ওঠে ও ডানায় ভর করে ওড়ার মতো বাতাসে ভেসে চলে। কোন কোন মাছ পাখিদের মতো বাসা বেঁধে সেই বাসায় ডিম পাড়ে। বাসা অবশ্য বাঁধা হয় জলের তলায়। মাছেদের সম্বন্ধে আর একটি বড় কথা, সমুদ্রের মাছেরা অনেক সময়েই ঝাক বেঁধে ঘুরে বেড়ায়।

এই আর্টিকেলটি পড়বার জন্য আপনাদের সবাইকে আমি আন্তরিকভাবে  ধন্যবাদ জানাই। এরকম আরও মজার এবং পৃথিবীর অচেনা-অজানা রহস্য সম্পর্কে আর্টিকেল পাবার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।





Thursday, April 19, 2018

আকাশে কি কোন তারাশূন্য ফাঁক আছে ?

রাত্রিবেলায় আপনারা যদি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেন তাহলে আপনারা লক্ষ্য করবেন যে আকাশের কোন কোন জায়গায় কোন তারা দেখা যায় না। মনে হয়, এসব জায়গা বুঝি ফাঁকা। যেমন, কোনো কোনো ফুল গাছের সব জায়গায় সমানভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে কিংবা সারি সারি ভাবে ফুল ফোঁটে না। কিছু অংশ ফাঁকা থাকে।

জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম
হার্শেল দূরবীনে এমনি সব জায়গা দেখে বলেছিলেন,
“এই জায়গাটা নিশ্চয়ই ফাকা !”
                      
  কিন্তু আজ আর সে কথা বলা যাবে না। এখানে কালো কালো নীহারিকা তারাদের আড়াল করে বিরাজ করছে বলে এসব জায়গায় তারা দেখা যায় না। নীহারিকাগুলো গ্রহকণিকা আর গ্যাসের জমাট পুঞ্জ। এরা ধুলোর মেঘ-এরা পিছনের তারাদের আড়াল করে থাকে।

আমরা যে ছায়াপথের মধ্যে আছি সেখানেও কোন জায়গা ফাঁকা নেই। সব জায়গায় এই সব নীহারিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছায়াপথের পর ছায়াপথ মহাকাশভরা নীহারিকা,গ্রহ, তারা সব রয়েছে, কেউ দূরে, কেউ কাছে। কোথাও ফাঁকা নেই।

ক্লিপার শিপ ( clipper ship ) কাকে বলে ?

ক্লিপার শিপ ( clipper ship) একরকমের অতি দ্রুতগামী পালের জাহাজ । যে সময় পালতোলা জাহাজ বাতাসের ধাক্কায় চলত তখনকার সময়ে এই রকম জাহাজ ছিল সবচেয়ে দ্রুতগামী । এদের সম্মুখভাগটা ছিল লম্বা ও সরু-আর জলের কাছাকাছি নীচু হয়ে।
সামনে ঝুঁকে এরা চলত । এদের মাস্তুলগুলো খুব
লম্বা ও উচু হত—তাতে বিরাট বিরাট পাল খাটানো।
থাকতো। এই রকম একটি পালতোলা জাহাজের
নাম ছিল লাইটনিং ( Lightning ) ; তাতে ১৩,০০০ বর্গফুট পাল খাটানো থাকতো।
             
                  ক্লিপার শিপ ( clipper ship )

চীনদেশের চা রপ্তানির জন্যেই এই জাহাজের।
পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইংলণ্ডে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে
তখন চীনের চায়ের খুব বেশি চাহিদা ছিল। প্রত্যেক
বছরের প্রথম উৎপন্ন চা তাড়াতাড়ি বিদেশে পাঠালে
খুব চড়া দাম পাওয়া যেত।

বছর কুড়ি এই ক্লিপার জাহাজ ছিল জলপথের রাজা নিউইয়র্কে ১৮৪১ খ্রীস্টাব্দে প্রথম ক্লিপার জাহাজ জলে ভাসানে৷ হয়েছিল—তার নাম ছিল হেলেনা। এটা ততবড় বড় ছিল না, লম্বায় ১৩৫ ফুট আর জাহাজের নীচের তলার কাঠের ( beam ) দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ ফুট ৬ ইঞ্চি । এর দুবছর পরে রেনবো ( Rainbow) জাহাজ তৈরি করা হল, সেটা আরো বড়। তারপর তৈরী হল সী উইচ (Sea Witch ) এটা ছিল ১৭০ ফুট লম্বা আর এর তলার কাঠ ছিল ৩৪ ফুট। রেনবো জাহাজ নিউইয়র্ক থেকে ক্যান্টন পৌছতে ছয় মাসের কিছু কম সময় নিয়েছিল ।

ক্রমশঃ জাহাজের আকার বাড়ানোর কাজ শুরু হল।
শেষ পর্যন্ত ক্লিপার জাহাজ ৩১৪ ফুট লম্বা করে তৈরী হল আর তার তলার কাঠ বাড়িয়ে করা
হল ৪৯ ফুট । জাহাজের গতিও নানা উপায়ে
বাড়ানো হতে লাগল।

কিন্তু ক্লিপার জাহাজের আয়ু বেশী দিন থাকল না বাম্পশক্তি আর ইস্পাত আবিষ্কারের ফলে ১৮১৯ খ্রীস্টাব্দেই কাঠের জাহাজে বাষ্পীয় ইঞ্জিন বসানো হল। তারপর কাঠের জাহাজের বদলে তৈরী হল ইস্পাতের জাহাজ । তার সঙ্গে বাস্পীয় ইঞ্জিন যোগ করায় কাঠের তৈরী পালতোলা জাহাজের দিন ফুরিয়ে গেল।